কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ১১:০৬ PM

ট্যান্ডেম অ্যাক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটিজ ডিভিশন(টিএএফডি), আইএনএসটি, এইআরই, সাভার, ঢাকা ।

কন্টেন্ট: পাতা

পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
গণকবাড়ি, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।
টেলিফোনঃ +৮৮০-২২২৩৩৭৫২৭৫,  ই-মেইলঃ md.shuzauddin@yahoo.com

 

 

অত্র বিভাগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জটিল অ্যাক্সিলারেটর সিস্টেমটি সচল রাখা ও তা হতে গবেষণার জন্য আয়ন বিম সরবরাহ করে মৌলিক ও প্রায়োগিক উভয় গবেষণা করা। মৌলিক নিউক্লিয়ার অনুসন্ধান ও প্রায়োগিক অধ্যয়ন উভয় ক্ষেত্রের নিউক্লিয়ার গবেষণায় নিম্নশক্তির কণা অ্যাক্সিলারেটরের ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যেমন- নিউক্লিয়ার ক্রস-সেকশন পরিমাপন ও উপাদান বিশ্লেষণ। উপাদান বিশ্লেষণে PIXE (প্রোটন প্রভাবিত এক্স-রে নির্গমন) কৌশল সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক উচ্চমানের ডিটেক্টর ও ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নতুন আগ্রহ সৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

 

চলমান গবেষণা ও উন্নয়ন 

 প্রোটন-প্ররোচিত বিক্রিয়া অধ্যয়ন

৩ MV ট্যান্ডেম অ্যাক্সিলারেটর হতে প্রাপ্ত অপেক্ষাকৃত কম শক্তির প্রোটন বিম (³ ৬ MeV) (p,g) এবং (p,n) নিউক্লিয়ার বিক্রিয়াসমুহের ক্রস-সেকশন পরিমাপ করার জন্য বেশি উপযোগী বলে প্রতীয়মান হয়। (n,g) বিক্রিয়ার জন্য প্রচুর তথ্য পাওয়া গেলেও, (p,g) বিক্রিয়ার বিষয়ে খুব কম তথ্য বিদ্যমান। মাঝারি ভর নিউক্লিয়াসের ক্ষেত্রে (p,g) বিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা আরও সম্ভাবনাময় বলে মনে হয়। প্রোটন-প্ররোচিত বিক্রিয়াগুলোর থ্রেশোল্ড শক্তির কাছাকাছি কিছু তথ্য জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত আইসোটোপ উৎপাদনের জন্য, বিশেষ করে দ্রবণ টার্গেট তৈরির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পর্যায়ে Ni, Fe, Zn এবং Rb কে টার্গেট হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

(p,γ) এবং (p,n) বিক্রিয়াসমুহের পরীক্ষামূলক ও তাত্ত্বিক অধ্যয়ন এই বিক্রিয়াগুলোর ভিতরের মেকানিজম সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা দেবে, বিশেষ করে তেজস্ক্রিয় প্রোটন ক্যাপচার প্রক্রিয়া, যা বিরল। ডেটাগুলো ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও কাজে আসবে, বিশেষ করে অ্যাক্সিলারেটর শিল্ডিং, নিউট্রন ডোসিমেট্রি এবং রেডিওনিউক্লাইড উৎপাদনে।  

 

PIXE কৌশল ব্যবহার করে উপাদান বিশ্লেষণ

 

ট্যান্ডেম অ্যাক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটিজ প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল বিশ্লেষণাত্বক সেবা: বিভিন্ন নমুনা যেমন- মাটি, পানি, বায়ু, খাদ্য, রক্ত, শিল্প উপকরণ ইত্যাদির উপাদানগুলোর গুণগত এবং পরিমাণগত বিশ্লেষণ। বিভাগে পরিচালিত কিছু গবেষণা কার্যক্রম নিচে তুলে ধরা হলো।    

 

  • জাহাজ ভাঙ্গা কার্যক্রমের জন্য পরিবেশ দূষণ নিরূপণের নিমিত্ত জাহাজ ভাঙ্গা এলাকার মাটি ও গাছের ছালের উপর গবেষণা;
  • রক্তের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের রক্তে সীসার পরিমাপ;  
  • সাভার, ঢাকা এলাকার ঔষধি গাছের উপাদান বিশ্লেষণ;   
  • বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ফল ও শাকসবজিতে অত্যাবশ্যকীয় ও ট্রেস উপাদান সমূহের অধ্যয়ন।

 

P/Be বিক্রিয়ার মাধ্যমে নিউট্রন উৎপাদন

  • ট্যান্ডেম অ্যাক্সিলারেটরে গবেষণার একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হলো নিউট্রন উৎপাদন এবং এর ব্যবহার। প্রোটনের সাথে বেরিলিয়ামের আন্তঃক্রিয়ায় মেগা-ইলেক্ট্রন-ভোল্ট পরিসরে নিউট্রন তৈরি হয়;
  • নিউট্রন ব্যবহার করে গবেষণার জন্য একটি নতুন বিম লাইন নকশা করা হয়েছে এবং ট্যান্ডেম অ্যাক্সিলারেটরের +১০° বিম পোর্টে এটি স্থাপন করা হয়েছে;
  • অ্যাক্সিলারেটরে নিউট্রন উৎপাদনের জন্য একটি Be-টার্গেট তৈরি করা হয়েছে। এই বিভাগ উৎপাদিত নিউট্রন স্পেকট্রামের বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ের কাজ করছে (সম্মুখ নিউট্রনের ক্ষেত্রে)। এই বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ের পর, নিউট্রন ক্ষেত্রটি বিভিন্ন পদার্থকে সক্রিয় করতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কিছু নিউট্রন থ্রেশোল্ড বিক্রিয়ার ক্রস-সেকশনের অবিচ্ছেদ্য পরিমাপ করা হয়, যেখানে নিউট্রন ডোসিমেট্রি বিক্রিয়ার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এই ফলাফলগুলো ডোসিমেট্রি বিক্রিয়ায় প্রাপ্ত এক্সাইটেশন ফাংশনগুলোর বৈধতা যাচাইয়ে অবদান রাখে।     

 

 ট্যান্ডেম অ্যাক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটিজ

নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ক্রস ‍সেকশন অধ্যয়ন, PIXE ও RBS কৌশলের জন্য পরীক্ষণ 

নতুন বীমলাইন যা নিউট্রন উৎপাদন করতে স্থাপন করা হয়েছে।

ট্যান্ডেম অ্যাক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটিজ পরিদর্শন

 

প্রদত্ত সেবা 

 অত্র বিভাগের বিজ্ঞানীবৃন্দ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিএসসি, এমএসসি, এমএস, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রির থিসিস এর কাজে সহায়তা করছেন। 


 

স্টেকহোল্ডার

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষক, শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

 

 

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান

  • অত্র বিভাগের একজন বিজ্ঞানী ২০২৫ সালে “ইসলামিক ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স এর ফেলো” নির্বাচিত হয়েছেন এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স গোল্ড মেড্যাল অর্জন করেছেন;
  • বিখ্যাত জার্নাল, যেমন Physical Review C, Molecules, European Physical Journal A, Radiochimica Acta ইত্যাদিতে প্রায় ৫০টি (বিগত ১০ বছর) নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
  • অ্যাক্সিলারেটরে ৬ MeV প্রোটন বিম ব্যবহার করে 64Ni(p,n)64Cu , natNi(p,x)61Cu এবং 54Fe(p,g)55Co নিউক্লিয়ার বিক্রিয়াসমূহের ক্রস-সেকশন পরিমাপন সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। উল্লিখিত নিউক্লিয়ার বিক্রিয়াসমূহের ক্রস ‍সেকশন পরিমাপন ৩ MV ট্যান্ডেম অ্যাক্সিলারেটরে তুলনামূলকভাবে নতুন গবেষণা হিসেবে পরিচিত করে;     
  • ইতোমধ্যে আমাদের গবেষণা সুবিধার সহায়তায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন পিএইচডি,  ১ জন এমফিল, ৬ জন এমএস, ৫ জন এমএসসি, ও ২ জন বিএসসি শিক্ষার্থী তাদের ডিগ্রি অর্জন করেছেন;
  • পরিবেশগত নমুনা নিয়ে গবেষণা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা।
  • (p,γ) ও (p,n) বিক্রিয়াগুলোর উপর প্রধানত জোর দিয়ে হালকা থেকে মাঝারি ভরের টার্গেট -এর সাথে প্রোটনের বিক্রিয়া অধ্যয়ন করতে Tandem Accelerator এ Alexander von Humboldt Foundation (AvH)- এর আংশিক আর্থিক সহায়তায় জার্মানির  Forschungszentrum Jülich (FZJ) এর সাথে যৌথ গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছে।    
  • Forschungszentrum Jülich (FZJ), জার্মানি, Lawrence Berkeley National Laboratory (LBNL), USA এবং Tandem Accelerator Facilities Division, INST, AERE, সাভার, ঢাকা-এর মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে, বিদেশের কিছু সাইক্লোট্রন ব্যবহার করার সুযোগ পাওয়া গিয়েছে, যেমন- Lawrence Berkeley National Laboratory (LBNL), USA তে 88-Inch Cyclotron, জার্মানীর Forschungszentrum Jülich (FZJ) এর BC1710 ও JULIC Cyclotrons এবং বেলজিয়ামের Louvain-la-Neuve তে CGR930 Cyclotron.
  • সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টাকে প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্ঞান, দক্ষতা এবং তথ্য বিনিময় করে নেওয়ার ক্ষেত্রে সফল হিসেবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। আমাদের গ্রুপের নিউক্লিয়ার তথ্য কার্যক্রমের উপরোক্ত বর্ণিত কালানুক্রমিক বিকাশ এবং বেশ কয়েকটি বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত ফলাফলে বিভাগটির কর্মদক্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রতিফলিত হয়েছে।
  • এই গবেষণা সহযোগিতার ফলে দেশ এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন উভয়েরই আন্তর্জাতিক সুনাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

অন্যান্য

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:

১) নিউট্রন ব্যবহার করে গবেষণার জন্য সুযোগ-সুবিধা স্থাপন।

২)  মেডিক্যাল আইসোটোপ উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রম, আয়ন বিম মিউটেশন ইত্যাদির জন্য নতুন বিমলাইন ও চেম্বার স্থাপন।

৩) আইসোটোপ উৎপাদন ও উন্নত গবেষণার জন্য উপযোগী, উচ্চ ফ্লাক্সের চার্জিত কণার জন্য মাল্টিকাস্প আয়ন উৎস স্থাপন।

 

 

যোগাযোগ/জনবল

পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
গণকবাড়ি, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।
টেলিফোনঃ +৮৮০-২২২৩৩৭৫২৭৫,  ই-মেইলঃ md.shuzauddin@yahoo.com

এখানে ক্লিক করুন

 

 

 

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন