কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৩:০৪ PM
কন্টেন্ট: পাতা
সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্র
কলাতলী, জিপিও বক্স-১৫, কক্সবাজার-৪৭০০।
ফোনঃ ০২৩৩৩৩৪৭৩১৯, ই-মেইলঃ bsmecbaec@gmail.com
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্র কয়েক দশক ধরে উপকূলীয় এলাকায় মূল্যবান খনিজ অনুসন্ধান এবং আহরণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এ যাবৎ সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্র ১৭টি ভারী খনিজ স্তুপের আবিষ্কারসহ এর বিস্তৃতি,মজুত এবং গুনগত মান নির্ণয় করেছে। সেই সাথে এই কেন্দ্রে একটি পরীক্ষামূলক খনিজ বালি পৃথকীকরণ প্লান্ট এবং একটি খনিজ পৃথকীকরণ গবেষণাগার স্থাপনের মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে কাঁচাবালি প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা রয়েছে। উক্ত খনিজগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় প্রধান প্রধান খনিজসমূহ হলো ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গারনেট, জিরকন এবং রুটাইল। সম্প্রতি উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকার নদীবাহিত বালিতে উপস্থিত অর্থনৈতিক খনিজ, বিশেষ করে সিলিকা সমৃদ্ধ বালি নিয়েও গবেষণা শুরু করা হয়েছে। এছাড়া সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশগত তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষণ ও পরিবীক্ষণও এই কেন্দ্রের বর্তমান কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
সমুদ্র উপকূলীয় সৈকত, দ্বীপ এবং নদীবিধৌত চর এলাকায় ভারী খনিজ অনুসন্ধান ও সামুদ্রিক পরিবেশগত তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষণ ও পরিবীক্ষণ। এছাড়া আবিস্কৃত ভারি খনিজ স্তুপের সর্বমোট এবং আহরণযোগ্য মজুত নির্ণয়, খননের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব পর্যবেক্ষণসহ সৈকত ও সমুদ্রের বালি ও পানিতে তেজস্ক্রিয় তথা ট্রেস উপাদানের উপস্থিতি ও প্রভাব নির্ণয়।
চলমান গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম
সমুদ্র উপকূলীয় সৈকত ও নদীবিধৌত দ্বীপ এলাকায় ভারী খনিজ অনুসন্ধান এবং আবিষ্কৃত খনিজ ডিপোজিটের বর্তমান অবস্থা ও অথনৈতিক সম্ভাব্যতা নিরূপণের লক্ষ্যে নিয়মিত মাঠ জরিপ।
কাঁচাবালি হতে অর্থনৈতিক খনিজ (ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গারনেট, জিরকন, রুটাইল, মোনাজাইট, সিলিকা, ইত্যাদি) পাইলটস্কেলে পৃথকীকরণ।
কাঁচাবালির মধ্যে ভারী খনিজ চিহ্নিতকরণ এবং খনিজতাত্ত্বিক ও ভূ-রাসায়নিক বৈশিষ্ট নিরুপণ।
ভারী ও তেজস্ক্রিয় খনিজ সমৃদ্ধ প্লেসার বালি অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পর্কিত শিল্প প্রশিক্ষণ (Industrial Training) ও শিক্ষা ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় সহায়তা প্রদান।
পদার্থবিদ্যার ভিত্তি সম্পর্কিত গবেষণা পরিচালনা।
খনিজবালি অনুসন্ধান ও উত্তোলনসহ সার্বিক কর্মকান্ডে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ কাজ পরিচালনা করা।
সেবা প্রদান
সেবার নাম | সেবাদানের ধরণ |
কাঁচাবালির (Raw Sand) মধ্যে ভারী খনিজ চিহ্নিতকরণ | খনিজের আপেক্ষিক গুরুত্ব (Specific Gravity) ও আলোকতাত্ত্বিক (Optical) বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে ভারী খনিজ সমৃদ্ধ কাঁচাবালির মধ্যে ম্যাগনেটাইট, ইলমেনাইট, গারনেট, জিরকন, রুটাইল, কায়ানাইট, লিউওকক্সিন ও মোনাজাইট সনাক্ত ও পরিমান নিরূপণ। |
কাঁচাবালি (Raw Sand) থেকে ভারী খনিজ পৃথকীকরণ | খনিজের ভৌত গুণাগুণ, বিশেষত আপেক্ষিক ঘনত্ব, চৌম্বকীয় এবং বৈদ্যুতিক ব্যবহার করে কাঁচাবালি থেকে ভারী খনিজ (ম্যাগনেটাইট, ইলমেনাইট, গারনেট, রুটাইল, জিরকন) পৃথক করা। |
পাইলট প্ল্যান্টে পৃথকীকৃত ৫টি ভারী খনিজ সরবরাহ | প্ল্যান্টে পৃথকীকৃত ৫টি খনিজ-ম্যাগনেটাইট, ইলমেনাইট, গারনেট, রুটাইল, জিরকন সরবরাহ |
স্টেকহোল্ডার
সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ।
দেশীয় শিল্পকারখানা।
অর্জন
এ যাবৎ ১৭টি ভারী খনিজ স্তুপের আবিষ্কারসহ এর বিস্তৃতি, মজুত এবং গুণগত মান নির্ণয়।
আবিষ্কৃত মজুদের কাঁচাবালি হতে ভারী ও তেজস্ক্রিয় খনিজ পৃথকীকরণের লক্ষ্যে পাইলট প্লান্টসহ অন্যান্য খনিজ পৃথকীকরণ গবেষণাগার স্থাপন।
কাঁচাবালি হতে অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গারনেট, জিরকন ও রুটাইল খনিজ সল্পমাত্রায় উৎপাদন এবং সরবরাহ।
বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রেরিত কাঁচাবালি নমুনার মধ্যে ভারী খনিজ চিহ্নিতকরণ এবং খনিজতাত্ত্বিক ও ভূ-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নিরুপণ।
রেডিয়েশন শিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ইলমেনাইট ও ম্যাগনেটাইট সরবরাহ।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ভারী ও তেজস্ক্রিয় খনিজ সমৃদ্ধ প্লেসার বালি অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ (Industrial Training) প্রদান।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে এযাবৎ ১৭টি ভারী খনিজ স্তুপের আবিষ্কারসহ এর বিস্তৃতি, মজুদ এবং গুণগত মান নির্ণয় করা হয়েছে যার প্রাক্কলিত আহরণযোগ্য পরিমান প্রায় ১.৭৬ মিলিয়ন টন যা দেশের খনিজ সম্পদকে সমৃদ্ধ করেছে।
উপকূলীয় খনিজ বালি সম্পর্কিত নতুন তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে যা এ সম্পর্কিত শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্ত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রশিক্ষণ ও ভারী খনিজ বালি সংক্রান্ত তথ্য সহায়তা প্রদান।
খনিজ বালি উত্তোলনে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি সহায়তা প্রদানে সক্ষমতা অর্জন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আবিস্কৃত ১৭ টি ভারী খনিজ স্তুপ হতে খনিজ আহরণ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কিনা তা নিরুপনের লক্ষ্যে Feasibility Study বাস্তবায়ন করা।
খনিজবালি অনুসন্ধান ও উত্তোলনসহ সার্বিক কর্মকান্ডে সরকারী অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ কাজ পরিচালনা করা।
সামুদ্রিক নমুনায় radionuclides ও trace elements-এর মাত্রা ও বৈশিষ্ট নিরুপন এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর এর প্রভাব নির্ণয়।
কক্সবাজার ও আশেপাশের এলাকার ভূ-গর্ভস্থ পানিতে ও পরিবেশে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা ও প্রভাব নিরুপন।
যুগোপযোগী গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজার প্রতিষ্ঠা করা।
নাগরিক সেবা সনদ
সেবার নাম, মূল্যসহ বিস্তারিত দেখতে এখানে ক্লিক করুন ।
যোগাযোগ/জনবল
সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্র
কলাতলী, জিপিও বক্স-১৫, কক্সবাজার-৪৭০০।
ফোনঃ ০২৩৩৩৩৪৭৩১৯, ই-মেইলঃ bsmecbaec@gmail.com