কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০১:০৩ PM

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, শের-ই-বাংলা নগর, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭

কন্টেন্ট: পাতা

পরমাণু ভবন
ই-১২/এ, আগারগাঁও
শের-ই-বাংলা নগর ঢাকা-১২০৭

আমাদের সম্পর্কে

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বাপশক) দেশে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, প্রচার, উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রতিষ্ঠিত অগ্রণী ও আইনগতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। ষাটের দশকের শুরুতে ঢাকায় ছোট্ট একটি গবেষণাগারে কৃষি ও চিকিৎসায় পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের উপর গবেষণার মাধ্যমে বাপশক তার প্রচেষ্টা শুরু করেছিল । কমিশন ১৯৬৪ সালে পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, ঢাকা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সর্বপ্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিউক্লিয়ার পদার্থবিদ্যার উপর তাত্ত্বিক ও পরীক্ষামূলক গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি ও উন্নয়ন এবং এতৎসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সদস্য হয়। এরপর, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে "রাষ্ট্রপতির আদেশ নং: ১৫"-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে "রাষ্ট্রপতির আদেশ নং: ১৫" "বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন আইন, ২০১৭" দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

যাত্রা শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন দেশের জনগণের কল্যাণে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা, শিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার এবং পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও প্রয়োগের মাধ্যমে বহুমুখী গবেষণা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন যে সকল ক্ষেত্রে তার গবেষণা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে চলেছে সেগুলো হলো: পরমাণু চিকিৎসা, তেজস্ক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ, স্বাস্থ্য পদার্থবিজ্ঞান, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রেডিওআইসোটোপ ও রেডিও-ফার্মাসিউটিক্যালস্, সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড ডোজিমেট্রি, বস্তুর চরিত্রায়ন/বৈশিষ্ট্য নির্ণয়, টিশূ ব্যাংকিং ও বায়োম্যাটেরিয়্যাল উন্নয়ন, বিকিরণের সাহায্যে খাদ্য সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ দূষণ, পলিমার প্রক্রিয়াকরণ, ট্রেস-এলিমেন্টসমূহের চরিত্রায়ন/বৈশিষ্ট্য নির্ণয়, অ্যাগ্রোকেমিক্যাল রেসিডিউ, আইসোটোপ হাইড্রোলজি, কণা-ত্বরক যন্ত্রের সাহায্যে মৌলিক বিশ্লেষণ, রাসায়নিক বিশ্লেষণ, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আইবিএম মেইনফ্রেম কম্পিউটার স্থাপনের গৌরবের অধিকারী বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন যা পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, ঢাকা-তে স্থাপন করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন দেশের সর্ববৃহৎ বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কমিশন তার নানাবিধ গবেষণা ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। যেমন- পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এইআরই), সাভার, পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, ঢাকা (এইসিডি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (নিনমাস), ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস), পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, চট্রগ্রাম (এইসিসি), সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্র ও রেডিয়েশন টেস্টিং অ্যান্ড মনিটরিং ল্যাবরেটরি (আরটিএমএল), মোংলা।

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা ও জ্বালানী নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের দায়িত্বে ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পাবনার রূপপুরে দেশের সর্বপ্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রবক্তা, প্রসারকারী ও প্রচারকারী হিসেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেইসাথে জনগণ, বিকিরণকরর্মী ও পরিবেশকে বিকিরণ সম্পাত হতে সুরক্ষা প্রদানকে প্রাথমিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে।

ভিশন

পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদানের লক্ষ্যে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি সাধন দ্বারা আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন।

মিশন

  • ভৌত, জীব ও প্রকৌশল শাখার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর মৌলিক, ব্যবহারিক ও উন্নত গবেষণা কর্মসূচীর অগ্রগতি সাধন;

  • পারমাণবিক শক্তি (পারমাণবিক বিদ্যুৎ) বিষয়ক কর্মসূচীর বাস্তবায়ন;

  • পারমাণবিক প্রযুক্তি নির্ভর সেবামূলক কর্মকান্ড ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তিক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয়া;

  • কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ ক্ষেত্রে পরমাণু প্রযুক্তির প্রয়োগ;

  • পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন;

  • বিকিরণ জনিত নিরাপত্তা চর্ম প্রতিষ্ঠাকরণ;

  • খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন