কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ১১:৪৩ PM
আইসোটোপ হাইড্রোলজি বিভাগ (আইএইচডি), আইএনএসটি, এইআরই, গণকবাড়ি, সাভার, ঢাকা।
কন্টেন্ট: পাতা
পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
গণকবাড়ি, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।
টেলিফোনঃ +৮৮০-১৬৭৫০০০৭২৩, ই-মেইলঃ ratankm@baec.gov.bd
চলমান গবেষণা ও উন্নয়ন
আইসোটোপ হাইড্রোলজি বিভাগ গত দুই দশক যাবত বাংলাদেশের পানি সম্পদ অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রেখে আসছে। আইসোটোপ হাইড্রোলজি একটি বিশেষায়িত পরমাণু প্রযুক্তি যা প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম আইসোটোপ ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানির উৎস, গতিপথ, বয়স ও বিভিন্ন অ্যাক্যুইফারের পারস্পরিক সংযোগ নিরূপণ করা হয়। বৃষ্টির উৎস ও জলবায়ু পরিবর্তন বোঝার জন্য স্থিতিশীল আইসোটোপ যেমন δ18O এবং δ2H ব্যবহৃত হয় এবং ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থানকাল বা বয়স নির্ধারণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ যেমন 3H ও 14C ব্যবহৃত হয় ।
বাংলাদেশে পানিসম্পদ সংশ্লিষ্ট নানা সমস্যা যেমন- দূষণ, শহর ও শিল্পাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, আর্সেনিক দূষণ, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, বন্যা ও খরা ইত্যাদি সমস্যাগুলো পানিসম্পদের পরিমাণ ও মান দুটোর উপরই মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করছে। এমতাবস্থায় দেশের পানিসম্পদের টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। দেশের জটিল ভূতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে প্রচলিত হাইড্রোলজিক্যাল পদ্ধতিতে অ্যাক্যুইআগুলোর আন্তঃসম্পর্ক ও ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থানকাল (বয়স) নির্ণয় সম্ভব নয়। সেই প্রেক্ষিতে আইসোটোপ প্রযুক্তি দেশের পানিসম্পদ মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইসোটোপ হাইড্রোলজি বিভাগ নিম্নলিখিত লক্ষ্যকে সামনে রেখে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেঃ
- ভূগর্ভস্থ পানির উৎস, পুনর্ভরণ, প্রবাহ, অবস্থানকাল (বয়স) ও বিভিন্ন অ্যাক্যুইফারের পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক নিরূপণ;
- পানিদূষণ নিরূপণ এবং দূষণের উৎস চিহ্নিতকরণ;
- উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার উৎস ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি নির্ধারণ;
- IAEA-GNIP নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বৃষ্টির আইসোটোপিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট নির্ধারণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক গবেষণা;
- টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনায় Fall-out Radio Nuclides (FRN) পদ্ধতি ব্যবহার করে নদীর ভাঙ্গন ও ভুমিক্ষয় মূল্যায়ন।
 |  |  |  |
| লিকুইড ওয়াটার আইসোটোপ এ্যালাইজার | আয়ন ক্রোমাটোগ্রাফ | ভু-গর্ভস্থ পানির নমুনা সংগ্রহ | হাই পিউরিটি জার্মেনিয়াম ডিটেকটর |
প্রদত্ত সেবা
- মাঠ পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহ সেবা
- ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির আইসোটোপ (14C, 13C, 3H, 15N and δ18O, δ2H ) এবং রাসায়নিক বিশ্লেষণের (Cation and Anion) জন্য নমুনা সংগ্রহ।
- ভূমিক্ষয় নিরূপণে Fall-out Radio Nuclides (FRN) বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে মৃত্তিকা-নমুনা সংগ্রহ।
- পানি নমুনার ভৌত ও রাসায়নিক (Cations: Ca2+, Mg2+, Na+, K+ etc, Anions: Cl-, NO3-, SO42-, HCO3- etc. and Trace elements: B, Ba, As, Fe, Mn, Pb, Cr, Ni, Co etc.) বিশ্লেষণ।
- পানি নমুনার আইসোটোপ (δ18O, δ2H) বিশ্লেষণ।
- মাটি, শিলা, খাদ্য ও পানির নমুনার প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা নিরূপণ।
স্টেকহোল্ডার
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB);
- জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE);
- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED);
- ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM);
- সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (CEGIS);
- বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC);
- মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (SRDI);
- বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান
- আইসোটোপ প্রযুক্তির প্রায়োগিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের হলোসিন যুগের (৭০ মিটার অপেক্ষা কম গভীরতা) ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে আর্সেনিক দূষণ শনাক্ত করা হয়েছে এবং উচ্চ অবস্থানকাল (Residence time) বিশিষ্ট গভীর ভূগর্ভস্থ পানি আর্সেনিকমুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- পটুয়াখালী জেলায় ৩০০ মিটার গভীরতায় ৯০০০ বছরের বেশি অবস্থানকাল (Residence time) বিশিষ্ট আর্সেনিক ও লবণাক্ততামুক্ত একটি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর চিহ্নিত করা হয়েছে।
- চট্টগ্রাম ওয়াসার আওতায় পৌর পানির সরবরাহ কার্যক্রমের জন্য মাদুনাঘাট এলাকায় আইসোটোপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর শনাক্ত করা হয়েছে।
- IAEA TC Project BGD5033-এর অধীনে ভূমিক্ষয় নিরূপণের জন্য একটি আধুনিক Fallout Radionuclide (FRN) Laboratory প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
- IAEA-GNIP (Global Network for Isotopes in Precipitation) এর আওতায় দেশের ৮টি জেলায় বৃষ্টিপাত নমুনা সংগ্রহ যন্ত্র স্থাপন, যার মাধ্যমে দেশের পানিসম্পদের আইসোটোপিক বৈশিষ্ট্য নিরূপণের জন্য Local Meteoric Water Line নির্ধারণ করা হয়েছে।
- আইসোটোপ হাইড্রোলজি বিভাগ ও ইন্সটিটিউট অব তিবেটান প্লাট্যু (ITP), চায়না অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস (CAS), চীনের মধ্যে যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে জলীয়বাষ্পের উৎস ও পরিচলন নির্ণয় করা হয়েছে।
- আইসোটোপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুমিল্লা জেলার গোমতী বাঁধে পানি অভিস্রবণ (seepage) শনাক্ত করা হয়েছে।
- সিলেট অঞ্চলে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ বছর বয়সসীমাবিশিষ্ট দুইটি ভিন্ন ভূগর্ভস্থ অ্যাক্যুইফার শনাক্ত করা হয়েছে।
- নড়াইল, মাগুরা, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায় অগভীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উচ্চমাত্রার আর্সেনিক ও লৌহের উপস্থিতির কারণে পানের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ অঞ্চলের গভীর অ্যাক্যুইফার উপরের স্তর থেকে পূণর্ভরণ (recharge) হয় না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যান্য
- দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের থিসিস গবেষণার তত্ত্বাবধান।
- ২০০৯ সাথে থেকে অত্র বিভাগ হতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রায় ৭৫ টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
যোগাযোগ/জনবল
পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
গণকবাড়ি, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।
টেলিফোনঃ +৮৮০-১৬৭৫০০০৭২৩, ই-মেইলঃ ratankm@baec.gov.bd
Click Here